পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মাত্র চার মাসের শাসনেই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের বিরক্তি চরমে পৌঁছেছে এবং খুব শিগগিরই রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলকাতায় দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা মান্য করে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির অন্যায়ের জবাব এবার জনগণই দেবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের কারণে ঠিকমতো সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না, তবে মানুষ এখন তৃণমূলের দিকেই ফিরছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূল এ বাংলার চুরির ইতিহাস বদলে দেবে। বিজেপির বড় পতন ঘটবে এবং খুব শিগগির তৃণমূল রাজপাটে ফিরে আসবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের অংশ এবং জাতীয় কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে সমাবেশ করে। অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেস কলকাতার মহাজাতি সদনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করে।
শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এইট–বি বাসস্ট্যান্ডে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ পরিবেশনার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের জামাতি শাসনের পর এই বাংলায় দেশপ্রেমীরা আজ দেশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। ওরা গেরুয়া নিয়ে কটাক্ষ করে, অথচ স্বামী বিবেকানন্দও তো গেরুয়া পরতেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগানের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘ক্ষুদিরাম বসু থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশকে স্বাধীন করে গেছেন। তাহলে ওরা কাশ্মীর বা অন্য কিসের আজাদি চায়? আজাদি কি হেরোইন, গাঁজা খাওয়ার? এদের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। হয় ওরা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। প্রয়োজনে আমরা পিওকে (পাক-অধিকৃত কাশ্মীর) দখল করে নেব।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলো কেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দখলে, তারও জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু অধিকারী। দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।